মোঃনিজাম উদ্দীন (স্বাধীন) বেতাগী(বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার বেতাগী উপজেলার গ্রামগুলোতে তোলপাড় চলছে পল্লিবিদ্যুতের মনগড়া বিল নিয়ে। পল্লিবিদ্যুতে কর্মরত অনেকেই বলছেন সার্ভিস তারে ব্যাপক বিদ্যুত খায় যা মিটার রিডিং এ দেখা যায় না তাই বিলের পরিমান বেশি আসে যা সর্ম্পূনই ভিত্তিহীন। এদিকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে গ্রাহকরা বকেয়া মাশুল ছাড়া তিন মাসের বিদ্যুত বিল একসঙ্গে দেয়ার সুবিধা পেলেও মনগড়া বিল নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অতিরিক্ত বিল কিভাবে সমন্বয় হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো সদুত্তরও পাচ্ছেন না।
এ অবস্থায় করোনা ঝুঁকির মধ্যেই তাদের বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।পল্লি বিদ্যুৎ অবশ্য বলেছে, অতিরিক্ত টাকা সমন্বয় করে বিল পাঠানো হয়েছে। ৫-৭ দিনের মধ্যে গ্রাহকরা জুন মাসের যে বিল পাবেন তাতে অতিরিক্ত টাকা সমন্বয় করা থাকবে।
স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিলে জানা যায়, পটুয়াখালী পল্লি বিদ্যুত সমিতির জোনাল অফিস বেতাগীর আওতায় প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের নামে ভুয়াবিল প্রদান সহ প্রতিমাসে বিল নিয়ে এর আগেও কম-বেশি অভিযোগ ছিল। তবে এবারের অভিযোগ আগের তুলানায় আরও ব্যাপক। মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে বিল নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রাহকের ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও টিভি নেই। তাদের বেলায়ও মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়েছে।
বিল নিয়ে ভোগান্তির শিকার একাধিক বাসিন্দা জানান, মার্চ এপ্রিল মে এই তিন মাসের বিল আগের মাসগুলোর তুলনায় তিনগুন করা হয়েছে। এই দুই মাস বাসায় মিটার রিডারও দেখতে আসেননি কেউ। মিটার না দেখে অনুমান করে বিল করা হয়েছে। এখনও জুন মাসের বিল তারা পাননি। এ কারণে এই বিল পরিশোধ করেননি। তারা বলেন, স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসগুলো এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারছে না। আবার অনেকে বলছেন পূর্বের মাসগুলোর বিল পরিশোধ করলেও নতুন মাসের তৈরী করা বিলে পূর্বের পরিশোধ করা বিল বকেয়া বিল হিসেবে যোগ করা হয়েছে।
বেতাগী বিদুৎ উপ-কেন্দ্রের ইনচার্জ প্রকৌশলী মোঃ আবুল বাশার জানান, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের কারনে ব্যবহারের পরিমান বেশি হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎবিল বেশি মনে হচ্ছে। করোনার কারনে রিডার কোন বাড়িতে ঢুকতে পারেনি তাবে পরে সমন্বয় করা হবে। আমরা পটুয়াখালী পল্লিবিদ্যুত সমিতিতে কথা বলেছি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুত সমিতি বরগুনা আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম মোঃ সাইদুর রহমান বলেন ভুয়া বিলের কোন সূযোগ নেই আমাদের পল্লিবিদ্যুতে। মিটারের রিডিং এর বাহিরে অতিরিক্ত বিল হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব আহসান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন,পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রকৌশলীকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

 96 total views

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here